ভারতের জয়পুরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার শহীদ স্মারকে অনুষ্ঠিত দলের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় এ ঘটনা ঘটে। হামলার অভিযোগে ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন রোহিত শর্মা, রাকেশ গুর্জর, অজয় শর্মা, কুলদীপ সিং এবং নিকেত। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৭০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা সম্ভাব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ প্রতিরোধে আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেয়।
সিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত ওই বিক্ষোভে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা, বেকারত্ব এবং তরুণদের নানা দাবি তুলে ধরা হয়। শত শত মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন বার্তা দেখা যায়। একই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সমর্থকদের কাঁধে চড়ে বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করছিলেন অভিজিৎ দিপকে। এ সময় ভিড়ের মধ্য থেকে কয়েকজন যুবক তার কাছে গিয়ে একাধিকবার চড় মারেন। ঘটনাটি মুহূর্তেই উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে দিপকের সমর্থকদের সঙ্গে অভিযুক্তদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পুলিশ।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ দিপকে এ ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, শারীরিক হামলা ভয় ও কাপুরুষতার পরিচয় এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তারা তাদের দাবি আদায় অব্যাহত রাখবেন। তিনি আবারও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং ধর্ম ও জাতপাতের বিভাজনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেছেন, হামলাটি পরিকল্পিত ছিল এবং হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। যদিও পুলিশ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। হামলার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি এবং আগামী ২০ জুন দিল্লির উদ্দেশে নতুন পদযাত্রার কথাও জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক