চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে বাবা-মায়ের খোঁজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে টানা তিন ঘণ্টা বন্যার পানিতে সাঁতরে নিজ গ্রামে পৌঁছেছেন ৩০ বছর বয়সী ‘শি’ পদবিধারী এক যুবক। মানবিকতা ও সাহসিকতার এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টানা ভারী বর্ষণ এবং কয়েকটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় চার লাখ মানুষ। বহু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
ঘটনার আগের রাতে শির মা ফোন করে জানান, ৬৩ বছর বয়সী তার বাবা ঘরে মজুত ধান নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে বের হয়েছিলেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও আর ফিরে আসেননি। এদিকে গ্রামের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে যাওয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে বাবা-মায়ের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
সারারাত উৎকণ্ঠায় কাটানোর পর পরদিন সকালে শি ও তার এক বন্ধু শহর থেকে দুটি নতুন ট্রাকের টায়ার কিনে বন্যার পানিতে রওনা দেন। টায়ারকে ভাসমান সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করে তারা প্রায় তিন ঘণ্টা সাঁতরে গ্রামের দিকে এগিয়ে যান। শেষ এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতেই তাদের প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
বাড়িতে পৌঁছে তারা দেখতে পান, দ্রুত বাড়তে থাকা পানির কারণে শির বাবা বাড়ির ওপরের তলায় আটকা পড়ে আছেন। ছেলেকে নিরাপদে দেখে স্বস্তি পেলেও তিনি প্রথমেই তাকে ঝুঁকি নেওয়ার জন্য বকাঝকা করেন। তার ভাষায়, “কিছু ধানের জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা উচিত হয়নি।”
এরপর শি বাড়ির পেছনের একটি নিরাপদ সরু পথ দিয়ে বাবাকে পাহাড়ের ওপর অবস্থিত অন্য বাড়িতে নিয়ে যান। ভেজা অবস্থায় ছেলেকে দেখে তার মা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং ছেলের সাহসিকতার প্রশংসা করার পাশাপাশি এমন ঝুঁকি নেওয়ায় তিরস্কারও করেন।
বাবা-মা নিরাপদে আছেন নিশ্চিত হওয়ার পর শি সেদিনই শহরের উদ্দেশে ফিরে যান। ফেরার পথেও তাকে আরও প্রায় দুই ঘণ্টা বন্যার পানি সাঁতরে অতিক্রম করতে হয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও পরিবারের প্রতি সন্তানের দায়বদ্ধতা ও সাহসিকতার এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এটিকে একজন সন্তানের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
কসমিক ডেস্ক