জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক নয়, চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক নয়, চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 25, 2026 ইং
জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক নয়, চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ছবির ক্যাপশন:

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সাধারণ জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বরের পার্থক্য বুঝে ওষুধ সেবনের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মেডিসিন ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। সাধারণ জ্বরের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী শুধু প্যারাসিটামল সেবনই নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞরা জানান, জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, শরীর ও গিরায় গিরায় ব্যথা, ত্বকে র‍্যাশ বা লালচে দাগ দেখা দিলে তা ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গুর সন্দেহ হলে প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। শিশুদের পর্যাপ্ত তরল খাবার, যেমন ডাবের পানি, শরবত ও বিশুদ্ধ পানি পান করাতে হবে। পাশাপাশি বাইরে বের হলে শিশুদের ফুলহাতা পোশাক, ফুলপ্যান্ট ও মোজা পরানোর পরামর্শ দেন তিনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে করোনা, ডেঙ্গু ও ডায়রিয়াসহ একাধিক ভাইরাসজনিত রোগ একসঙ্গে বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারেন। তবে আতঙ্কিত না হয়ে লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৫৯টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১২ হাজার ২০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে ১০ হাজার ৯১১ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রতি বছর ডেঙ্গু মোকাবিলায় সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। শুধু কীটনাশক প্রয়োগ করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এজন্য সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও স্থির পানিতে বংশবিস্তার করে। ফুলের টব, ছাদের পাত্র, পুরোনো টায়ার বা যেকোনো ছোট পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এদের প্রজননের আদর্শ স্থান। সূর্যোদয়ের পর প্রথম দুই ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগে দুই থেকে তিন ঘণ্টা এডিস মশা সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। তাই এই সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী জানান, বর্তমানে ডেনভ-৩ (DENV-3) সেরোটাইপের সংক্রমণে রোগীদের মধ্যে দ্রুত ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই জ্বরকে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা, চিকিৎসা গ্রহণ এবং বাসাবাড়ির আশপাশে কোথাও পরিষ্কার পানি জমতে না দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
আফগান সরকারকে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেবে রাশিয়া

আফগান সরকারকে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেবে রাশিয়া