ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। মোট ভোটারের মধ্যে ৬২ শতাংশের বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফলে সংবিধান সংস্কারের পথ সুগম হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্বও পালন করবেন।
সংসদের উচ্চকক্ষের গঠন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গণভোটে উচ্চকক্ষের আসনবণ্টন আনুপাতিক হারে হবে বলে উল্লেখ থাকলেও বিএনপি তাদের ইশতেহারে ক্ষমতায় গেলে আসনভিত্তিক বণ্টনের প্রস্তাব দিয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে ২৯০ আসনে অংশ নিয়ে ৪৯.৯৭% ভোট পেয়েছে, জামায়াত এককভাবে ২২৭ আসনে ৩১.৭৬% ভোট পেয়েছে। জোট হিসেবে বিএনপি ৫১% ভোট ও ২১২ আসন পায়, জামায়াত-এনসিপি জোট ৩৮.৫১% ভোট ও ৭৭টি আসন পায়।
আসনভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী উচ্চকক্ষে বিএনপি জোট ১০০ আসনের মধ্যে ৭০টি, জামায়াত অন্তত ২৬টি ও এনসিপি ২টি আসন পেতে পারে। আনুপাতিক হারে হিসাব করলে বিএনপি ৫২–৫৩টি ও জামায়াত অন্তত ৩৮টি আসন পাবে।
গণভোটে ভোটাররা সরাসরি আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার জানিয়েছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদের প্রক্রিয়ার আলোকে উচ্চকক্ষ গঠন করবে। তবে বিএনপির ইশতেহার গণভোটে পাশ হয়নি, ফলে আনুপাতিক হিসাবকে প্রাধান্য দেবে সংবিধান বিশ্লেষকরা।
উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে এই বিতর্কের ফলাফলের ওপর সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার ধারাবাহিকতা চলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক