আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে Afghanistan ও Russia-এর সম্পর্ক। তালেবান সরকারের সঙ্গে রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে আফগানিস্তান আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাওয়ার পথে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় আফগান সরকারকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করবে রাশিয়া। এতে করে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Mullah Mohammad Yaqoob Mujahid এই চুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা চলছিল এবং সাম্প্রতিক এক সফরের সময় তা চূড়ান্ত রূপ পায়।
চুক্তির আওতায় শুধু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই নয়, স্থল সামরিক সরঞ্জাম এবং তালেবান বাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ড্রোন প্রযুক্তি বা আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহ এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত কি না, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।
মস্কোয় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা Sergei Shoigu এবং তালেবান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াকুব মুজাহিদ উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করে বলে জানা গেছে।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক দেশ যেখানে এখনো তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি, সেখানে রাশিয়া শুরু থেকেই বাস্তবমুখী কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
এমনকি কাবুলে নিজেদের দূতাবাস চালু রাখা গুটিকয়েক দেশের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম। ২০২২ সালে দুই দেশের মধ্যে প্রথম আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার আওতায় আফগানিস্তানে তেল, গ্যাস ও গম সরবরাহ শুরু হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর পর থেকেই তালেবান সরকার আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অর্জনে আগ্রহী হয়ে ওঠে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আফগানিস্তানের বর্তমান বাস্তবতায় তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। একইভাবে সের্গেই শোইগুও জানিয়েছেন, রাশিয়া তালেবান সরকারের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়।
এদিকে তালেবান সরকারও দাবি করেছে, তারা আফগানিস্তানের মাটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না। পাশাপাশি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই সামরিক সহযোগিতা চুক্তি মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এটি শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কসমিক ডেস্ক