এখনো আসন সমঝোতার ‘স্বপ্নে’ বিভোর জাতীয় পার্টি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এখনো আসন সমঝোতার ‘স্বপ্নে’ বিভোর জাতীয় পার্টি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
এখনো আসন সমঝোতার ‘স্বপ্নে’ বিভোর জাতীয় পার্টি ছবির ক্যাপশন:
ad728

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার পর্ব শুরু হতে বাকি আর মাত্র তেরো দিন। এই নির্বাচনে ভোটের মূল সমীকরণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ছাড়া বড় কোনো দল কার্যত নেই। তবুও এই দুই দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা না থাকলেও আসন সমঝোতায় পৌঁছানোর ‘স্বপ্ন’ দেখছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। সমঝোতা হলে দলটি অন্তত ৭০টি আসন পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর থেকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ তকমা নিয়ে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় পড়ে জাতীয় পার্টি। নানা চাপ ও সমালোচনার মধ্যেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। যদিও সারা বছর ধরে বিভিন্ন দল ও মহলের পক্ষ থেকে জাপাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে অপতৎপরতার অভিযোগ রয়েছে, তবুও দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে দলটি।

তবে নির্বাচন ঘিরে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নিরাপত্তার শঙ্কা এবং সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়েও ভাবতে হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন জাপার নীতিনির্ধারকরা।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, এখনো কোনো দল বা জোটের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূত্রপাত হয়নি। তবে ভবিষ্যতে সমঝোতার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা যাচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, “পারস্পরিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত আসন সমঝোতা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমরা অন্তত ৭০টি আসন প্রত্যাশা করব।” একই সঙ্গে জাপার এক শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা এখনো অব্যাহত হুমকি ও নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। এসব বিষয় নিশ্চিতভাবে সমাধান না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে দলটিকে দ্বিতীয়বার ভাবতে হতে পারে।

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করলেও বাস্তবে কোণঠাসা অবস্থান কাটিয়ে উঠতে পারেনি জাতীয় পার্টি। এমনকি প্রার্থী সংকটেও পড়তে হয়েছে দলটিকে। পাঁচ দিন মনোনয়নপত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত থাকলেও মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত বিক্রি চালাতে হয়। ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে মনোনয়নপত্র বিক্রি হয় মাত্র তিন শতাধিক। এর মধ্যে ২২৪ আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ে ২৩টি মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০১ জনে। আপিল নিষ্পত্তির পর এই সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১ হাজার ৭৩৭টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছিল।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি এবং ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রতীক বরাদ্দ শেষে ২২ জানুয়ারি শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। সম্ভাব্য কোনো আসন সমঝোতা হলে তা এই সময়সীমার মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে।

তবে দলের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য আসন সমঝোতার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করে বলেন, আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মহলে অংশগ্রহণমূলক দেখাতে জাতীয় পার্টিকে প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সেই প্রয়োজনের কারণে বিএনপি আসন সমঝোতায় আগ্রহ দেখাবে—এমনটি তিনি মনে করেন না। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়েও দলটি কোনো রাজনৈতিক সুফল পাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়, তবু পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা কেন অধরাই

উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়, তবু পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা কেন অধরাই