নাটোরে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মিজানুর রহমান (৩২) নামে এক ব্যক্তির ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার পাশাপাশি হাত-পায়ের রগ কেটে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সুমন (৩৫) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার সুমন নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর এলাকার বাসিন্দা। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনছুর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে নাটোর জেলার দিয়ারসাতুরিয়া লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা কিরণ (২৪)-এর কাছে ৪৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে একদল চাঁদাবাজ। তবে কিরণ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় মিজানুর রহমান ও তার পিতা রুস্তম আলী মোল্লা (৭১) ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হামলাকারীরা তাদের গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে পূর্বের ঘটনার জেরে গত ২৪ মে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নাটোর সদর থানার ৪ নম্বর লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের হয়বতপুর বাজারের পূর্ব পাশে মন্টুর সারের গোডাউনের সামনে একা থাকা অবস্থায় মিজানুর রহমানের ওপর আবারও হামলা চালানো হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সোহেল রানা রাজীব ও গ্রেপ্তারকৃত সুমনের নেতৃত্বে আরও ৫ থেকে ৬ জন হামলাকারী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে মিজানুর রহমানকে ঘিরে ফেলে। হামলাকারীদের হাতে হাসুয়া, চাইনিজ কুড়াল, লোহার চাপ্পল, রড, চাকু ও লাঠিসোটা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর তারা মিজানুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। হামলার একপর্যায়ে তার দুই হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর আহতের পিতা রুস্তম আলী মোল্লা বাদী হয়ে নাটোর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কসমিক ডেস্ক