দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে Iran-কে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রভাবে US Dollar-এর একাধিপত্যে উল্লেখযোগ্য ধস নেমেছে। চলতি সপ্তাহে ডলারের মান গত জানুয়ারির পর সবচেয়ে বেশি কমেছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
এই পরিবর্তনের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকা এবং Strait of Hormuz দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের বদলে অন্যান্য বৈশ্বিক মুদ্রার দিকে ঝুঁকছেন।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত হয়েছে Islamabad-এর দিকে, যেখানে ইরান ও United States-এর প্রতিনিধিদের মধ্যে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে United States ও Israel-এর অভিযানের পর তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। সে সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকেছিলেন, যার ফলে মার্কিন মুদ্রার মান অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর চিত্রটি পুরোপুরি বদলে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে ডলার সূচক প্রায় ১.৩ শতাংশ কমে গেছে। বিপরীতে Euro, British Pound এবং পণ্যনির্ভর অন্যান্য মুদ্রা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে Chinese Yuan-এর উত্থান। চলমান পরিস্থিতির মধ্যেই ইউয়ান নাটকীয়ভাবে শক্তিশালী হয়ে ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও চীনের মুদ্রার এই উত্থান অনেক অর্থনীতিবিদকে বিস্মিত করেছে।
এদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন International Monetary Fund (আইএমএফ)-এর প্রধান Kristalina Georgieva। তিনি বলেছেন, ইরান ও পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
আগামী সপ্তাহে World Bank এবং আইএমএফ-এর বসন্তকালীন বৈঠকের আগে তিনি আরও জানান, এমনকি একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি হলেও বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসবে না।
আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সংঘাতের কারণে জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন ঘটায় ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। ডলারের পতন এবং ইউয়ানের উত্থান বিশ্ব মুদ্রাবাজারে একটি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কসমিক ডেস্ক