নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে জব্দ করা নিষিদ্ধ খনা জাল ও নৌকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৬৫ জনের নাম উল্লেখসহ মোট ১১৬৫ জন জেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে দুই জেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই রাতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে। এতে ৬৫ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই জেলে হলেন মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান কুড়েরপাড় এলাকার জাকির (২২) ও মামুন (২৪)। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই বিকেলে উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরে অভিযান চালিয়ে মোহনগঞ্জ থানার অধীন আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা চারটি বড় আকারের নিষিদ্ধ খনা জাল এবং দুটি নৌকা জব্দ করেন। প্রতিটি জালের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট। জব্দ করা জাল ও নৌকাগুলো তদন্ত কেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরদিন ১২ জুলাই দুপুরে কয়েকশ জেলে সংঘবদ্ধভাবে আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে জব্দ করা জাল ও নৌকা নিয়ে যান। পরে ১৩ জুলাই হাওরে অভিযান চালিয়ে একটি খনা জাল উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল পারভেজ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুল হাসান জানান, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের উদ্যোগে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর হাওরে ৭৫ হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনাগুলো বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার না করার জন্য স্থানীয় জেলেদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল।
তবে স্থানীয় জেলেদের দাবি, সরকারি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ গত ২৮ জুন শেষ হওয়ায় তারা বৈধভাবে মাছ ধরার অধিকার ফিরে পেয়েছেন। এ কারণে স্থানীয়ভাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মানতে তারা অনীহা প্রকাশ করছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলে ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা ও বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাওরের দেশীয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কসমিক ডেস্ক