পাকিস্তানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর সহিংস বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে আটজন সাংবাদিক, ইউটিউবার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী আদালত (এটিসি)। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) তাঁদের অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করা হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৯ মে ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ রায় দেওয়া হয়েছে। ওই দিন ইমরান খানের সমর্থকেরা দেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পর থেকেই পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং তাদের সমর্থক ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় ও অভিযান শুরু করে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, দণ্ডিত আটজনের অধিকাংশ বর্তমানে পাকিস্তানের বাইরে অবস্থান করছেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ইউটিউবার আদিল রাজা ও সৈয়দ আকবর হোসেন; প্রবীণ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক শাহীন সেহবাই, সাবির শাকির, ওয়াজাহাত সাঈদ খান ও মঈদ পিরজাদা; রাজনৈতিক বিশ্লেষক হায়দার রাজা মেহদি এবং আরও দুইজন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকটিভিস্ট।
আদালত তার রায়ে বলেন, অভিযুক্তদের অনলাইন কনটেন্ট ও বক্তব্য পাকিস্তানের আইনে ‘সন্ত্রাসবাদের আওতাভুক্ত’। আদালতের মতে, এসব প্রচারণা সমাজে ভীতি, অস্থিরতা এবং রাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব উসকে দিয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানাও আরোপ করেছেন। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে এই রায় কার্যকর করতে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এদিকে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই কঠোর রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অধিকার সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে)। সংগঠনটি আগেই বলেছিল, এসব মামলা সমালোচনামূলক সাংবাদিকতা দমনের একটি কৌশল। সিপিজের এশিয়া প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর বেহ লি ই এক বিবৃতিতে বলেন, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এসব তদন্ত বন্ধ করতে হবে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা জরুরি।
২০২৪ সালে সাধারণ নির্বাচনের পর পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমলেও ইমরান খানের মুক্তি এবং তাঁর দল ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো ঘিরে সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের সঙ্গে রাজনৈতিক শক্তির টানাপোড়েন এখনো অব্যাহত।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে তিনি ১৯ কোটি পাউন্ড দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন এবং রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবি সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত।
কসমিক ডেস্ক