মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে প্রেমের টানে চীনা নাগরিক ইয়ং ডিলি স্থানীয় তরুণী সাহারা আক্তারের সঙ্গে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘদিন অনলাইনে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পর এই বিয়ে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
রোববার (২ মার্চ) উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের রসুলপুর (সতুরচর) গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সকাল ১১টার দিকে ইয়ং ডিলি সাহারা আক্তারের বাড়িতে পৌঁছালে আশেপাশের মানুষজন কৌতূহলবশত ভিড় জমান। প্রথমবারের মতো বিদেশি নাগরিককে এক নজর দেখতে এসে আশপাশের মানুষের ভিড় বাড়ে, যা স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রসুলপুর গ্রামের ফিরোজ শেখের মেয়ে সাহারা আক্তারের (২০) সঙ্গে ইয়ং ডিলির পরিচয় প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটের মাধ্যমে হয়। প্রথমে এটি ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পরে তা প্রেমে পরিণত হয়। দীর্ঘদিনের অনলাইন যোগাযোগ, ভিডিও কল এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে তারা একে অপরকে ভালোভাবে চেনেন।
গত শনিবার ইয়ং ডিলি বাংলাদেশে আসে। দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা ও প্রস্তুতির পর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার দিকে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে চীনা যুবক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নাম পরিবর্তন করে মো. আব্দুল্লাহ রাখেন।
সাহারা আক্তারের পরিবার জানায়, শুরুতে তারা কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। তবে ইয়ং ডিলির ইসলাম ধর্ম ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহ এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ভিত্তিতে তারা বিয়েতে সম্মতি দেন।
স্থানীয়রা বলেন, ভিন্ন দেশের এবং ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের এই মিলন এলাকায় যথেষ্ট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে আগ্রহী মানুষজন বাড়ির আশেপাশে ভিড় করেন। বর্তমানে নবদম্পতি আপাতত শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবেন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, অনলাইন সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক মিলন আজকের যুগে ক্রমবর্ধমান। ইয়ং ডিলি এবং সাহারার এই বিবাহ সেই প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ। প্রেমের টানে সীমান্ত পেরিয়ে দুই সংস্কৃতির মানুষের মিলন সিরাজদীখান এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নতুন সামাজিক প্রেক্ষাপটের প্রতি মানুষের আগ্রহও বাড়িয়েছে।
উপজেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও নবদম্পতির এই বিয়েকে উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, যেখানে ভিন্ন দেশের মানুষ পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া এবং পরিবারের সমর্থনের মাধ্যমে জীবন শুরু করতে পারেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় সমাজে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব এবং সাংস্কৃতিক সংহতির দিকেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক