জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর উদ্যোগে নির্বাচনের পর সহিংসতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার পর রাজধানীর বাংলামোটর–এর রূপায়ন ট্রেড সেন্টারের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের হয়ে শাহবাগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। মিছিলকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যার মধ্যে ছিল, ‘ধর্ষকদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘ধর্ষকদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, এবং ‘একদিনে ৩ খুন, তারেক জিয়ার অনেক গুণ’।
এনসিপির অভিযোগ, নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলা–তে জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তাদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, ভাঙচুর ও সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালানো হয়েছে। দলের দাবি, এসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপি সমর্থিত গোষ্ঠী–এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চানন্দি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে তিন সন্তানের জননীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। হামলার সময় ভুক্তভোগীর স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়। পরদিন সকালে তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই নারী নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এনসিপি জানায়, গত তিন দিনে হাতিয়ায় তাদের অন্তত ৫০০ নেতা-কর্মীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। অন্তত ১৩ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দলটির অভিযোগ, এলাকায় ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিতভাবে এই সহিংসতা চালানো হয়েছে।
এনসিপি বলছে, ভোটাধিকার প্রয়োগের কারণে কোনো নাগরিকের ওপর সহিংসতা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে এনসিপি এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দলটি আশা প্রকাশ করেছে যে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে হস্তক্ষেপকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবে।