দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের বিভিন্ন গ্রাম ও শহর লক্ষ্য করে ইসরায়েল বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
বুধবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের একাধিক গ্রাম ও শহরে ধারাবাহিকভাবে এসব হামলা চালানো হয়।
দক্ষিণ লেবাননের আল-শাহাবিয়া এলাকায় মঙ্গলবার রাতভর ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হন।
এই হামলায় আরও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে পূর্ব লেবাননের বালবেক জেলার তামিনিন আল-তাহতা এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলায় আরও সাতজন নিহত হয়েছেন।
এই হামলায় অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বিনতে জবেইল জেলার সাফ আল-হাওয়া এলাকায় একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়।
এই হামলায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিহ এলাকায় আরেকটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া বেকা উপত্যকাতেও অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রাণহানির পাশাপাশি এসব হামলায় বিভিন্ন স্থানে বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকার আলি আল-নাহরি এলাকায় হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া বিনতে জবেইল জেলার বারাচি এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুইজন সিরীয় নাগরিক আহত হয়েছেন।
তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
একই জেলার তিবনিন এলাকায়ও হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে বুধবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরেও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
তবে হামলা চালানোর আগে ওই এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলার পর লক্ষ্যবস্তু এলাকাগুলোর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া উড়তে থাকে।
তাৎক্ষণিকভাবে বৈরুতের ওই হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে ধারাবাহিক এসব হামলার ফলে শহরজুড়ে উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক