যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব প্রত্যাখ্যান করে মন্তব্য ইসরায়েলি কর্মকর্তার স্লাগ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব প্রত্যাখ্যান করে মন্তব্য ইসরায়েলি কর্মকর্তার স্লাগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 15, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব প্রত্যাখ্যান করে মন্তব্য ইসরায়েলি কর্মকর্তার স্লাগ ছবির ক্যাপশন:

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক চুক্তি ইসরায়েলের ওপর কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক নয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইসরায়েল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং নিজেদের নিরাপত্তা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে তারা স্বাধীন।

সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বেন-গভির এ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও আঞ্চলিক সংঘাত ঘিরে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়েও আপত্তি জানান।

বেন-গভির বলেন, এই ধরনের চুক্তিতে ইসরায়েল অংশীদার নয়, কারণ এটি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। তার দাবি, ইসরায়েলি সেনারা যেসব এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, সেসব এলাকা থেকে পিছু হটার কোনো প্রশ্নই আসে না।

তিনি আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা ছাড়া কোনো ধরনের আপস গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, ইসরায়েলি বাহিনী যেসব এলাকা “সন্ত্রাসী অবকাঠামো থেকে মুক্ত করেছে”, সেখান থেকে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

বেন-গভির আরও দাবি করেন, উত্তর সীমান্তের বসতিগুলোর কাছে আবার হাজার হাজার সশস্ত্র যোদ্ধার উপস্থিতি তৈরি হলে ইসরায়েল তা মেনে নেবে না। ইসরায়েলের দিকে কোনো গুলি ছোড়া হলে তারা নীরব থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও এই নীতিগত অবস্থান নিয়ে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে।

একই দিনে আরও কয়েকজন ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতা সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেন। বিরোধী দল “দ্য ডেমোক্র্যাটস”-এর নেতা ইয়ার গোলান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন।

গোলান অভিযোগ করেন, এমন একটি চুক্তির সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও নেতানিয়াহু কার্যকর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার মতে, ইসরায়েলের সামরিক অর্জন, যা সেনা ও পাইলটদের ত্যাগ ও সাহসের মাধ্যমে এসেছে, তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের নীরবতা এবং অনিচ্ছা ইসরায়েলের নিরাপত্তা কৌশলকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে একদিকে কঠোর নিরাপত্তা অবস্থান, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমঝোতা—এই দুই ধারার মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বেন-গভিরের বক্তব্য ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের নিরাপত্তা-ভিত্তিক কঠোর নীতিরই প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনও প্রকাশ করে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য চুক্তি ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের অবস্থান আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রথম ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার অধিনায়ক

প্রথম ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার অধিনায়ক