জিয়ার দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জিয়ার দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 30, 2026 ইং
জিয়ার দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ছবির ক্যাপশন: জিয়ার দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেছেন, তার সাদাসিধে, নির্মোহ জীবন, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, প্রশ্নাতীত সততা এবং বাস্তববাদী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ভূমিকা জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন কর্মোদ্যমী ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি স্বল্প সময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় গভীর ছাপ রেখে গেছেন। তার মতে, জিয়ার জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

রাষ্ট্রপ্রধান তার বাণীতে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত ঘটনাকে স্মরণ করে বলেন, দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি নির্মমভাবে শহীদ হন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে জাতি একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ও রাষ্ট্রনায়ককে হারায়।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে মহান মুক্তিযুদ্ধের উষালগ্নের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে তিনি সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেন। তার এই ঘোষণা স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য জিয়াউর রহমান ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন বলেও রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন। তার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত।

তিনি আরও বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জিয়াউর রহমান বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তার প্রণীত ১৯ দফা কর্মসূচি একটি উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা হিসেবে কাজ করেছে।

পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, জিয়াউর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছিলেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রেও তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও উন্নয়ন ভাবনা আজও জাতির জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার কর্মময় জীবন ও দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির এই বাণীতে জিয়াউর রহমানকে একজন মুক্তিযোদ্ধা, রাষ্ট্রনায়ক ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যার রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় অবদান বাংলাদেশি ইতিহাসে গভীরভাবে প্রোথিত।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের শেষ সুযোগ চাইলেন মির্জা ফখরুল

অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের শেষ সুযোগ চাইলেন মির্জা ফখরুল