রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন ও মিসাইল হামলার পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অবস্থিত ঐতিহাসিক কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা মঠে আগুন লেগেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার ভোরের দিকে চালানো হামলার পর ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ছবিতে দেখা যায়, প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো এই মঠের ডরমিশন ক্যাথেড্রালের গম্বুজ ও টাওয়ারের আশপাশ থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া বের হচ্ছে। দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।
ইউক্রেনের সংস্কৃতি মন্ত্রী টেটিয়ানা বেরেজনা জানান, রুশ হামলায় ডরমিশন ক্যাথেড্রাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভের ধর্মীয় নেতা মেট্রোপলিটন এপিফানিয়াস এই ঘটনাকে “মানবতা, ইতিহাস ও খ্রিস্টধর্মের বিরুদ্ধে আরেকটি রুশ অপরাধ” বলে মন্তব্য করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাটি রক্ষায় প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন।
কিয়েভ শহর প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। শহরের উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার পরিবার অন্ধকারে পড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ভিতালি ক্লিচকো।
ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা মঠটি ১১ শতকে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি পূর্ব ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। ২০২৩ সালে যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ায় এটি ইউনেস্কোর “World Heritage in Danger” তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অন্যদিকে একই সময়ে ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে পৃথক রুশ হামলায় আরও অন্তত পাঁচজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। এই হামলাগুলো ইউক্রেনজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। একই সময়ে ক্রেমলিন জানায়, ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলেছেন। যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও সামরিক পরিস্থিতি এখনো তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক