নাটোরের সিংড়ায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে স্থানীয় রাজনৈতিক বিবাদ নতুনভাবে উত্তেজনা তৈরি করেছে। ২০১৭ সালে আলতাব হোসেন আকন্দের নির্দেশে যুবদল নেতা শামীম হোসেনকে মারধর করার ঘটনায় প্রতিশোধ হিসেবে ওই যুবদল নেতা শামীম হোসেন একই বাজারে আলতাব হোসেন আকন্দকে চড়-থাপ্পড় মারেন।
স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার স্থান কালিগঞ্জ বাজার, যা উপজেলার ছাতারদিঘি ইউনিয়নের অংশ। হামলার শিকার আলতাব হোসেন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। ২০১৭ সালে তুচ্ছ ঘটনা ঘিরে তাকে কেন্দ্র করে ওই বাজারে হট্টগোল তৈরি হয়েছিল। তখন শামীম হোসেনকে আলতাব হোসেনের নির্দেশে স্থানীয় লোকজন মারধর করেছিল।
যুবদল নেতা শামীম হোসেন বলেন, “২০১৭ সালে ছাতারদিঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপনির্বাচনে আলতাব হোসেন আমাকে মারধর করেছিলেন। ওই নির্বাচনে আমি ধানের শীষের পক্ষে কাজ করায় আমি মার খেয়েছিলাম। তাই আজকে শুধুমাত্র প্রতিশোধ হিসেবে চড়-থাপ্পড় করেছি।”
অপরদিকে আলতাব হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি কখনো তাকে মারধর করিনি। ২০১৭ সালে ওই বাজারে একটি ইসলামী জলসার পাশে যুবদল নেতা শামীমসহ কয়েকজন খিচুড়ির আয়োজন করেছিলেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল হয়েছিল।”
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবদুন নূর কালবেলা বলেন, এমন একটি ঘটনার কথা শুনেছি। তবে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। বাজারে এই ধরনের মারপিট সাধারণ মানুষকে ভীত করে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।
২০১৭ সালের ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা যে ঘটেছে, তা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে পুরনো দফারফার এবং প্রতিশোধের সংস্কৃতির পরিচায়ক। সিংড়ার এই ঘটনা প্রমাণ করে, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধ সমাজের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন ও থানা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি দ্রুত সমাধান এবং দোষীদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধান জরুরি বলে মত দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের জন্য থানার পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ ও প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যতে এমন সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।