পঞ্চগড়-১ (সদর–তেঁতুলিয়া–আটোয়ারী) আসনের প্রার্থী সারজিস আলমের নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর নথিতে আয়ের তথ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন বলেন, কোনো প্রার্থীর হলফনামা সংক্রান্ত বিষয়ে যদি নির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক অভিযোগ আসে, তাহলে কমিশন তা যাচাই করে দেখবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগটি হতে হবে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য। এমন তথ্য পাওয়া গেলে কমিশন তার আইনগত দায়িত্ব অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এদিকে একই দিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া সারজিস আলমের হলফনামায় উল্লেখিত আয়ের তথ্যের সঙ্গে তার আয়কর রিটার্নের হিসাবের মিল নেই। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই প্রার্থী হলফনামায় নিজেকে ‘ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। তবে ২০২৫–২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা, যা হলফনামায় উল্লেখিত অঙ্কের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সারজিস আলম তার হলফনামায় আয়ের দুটি আলাদা তথ্য উপস্থাপন করেছেন, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে তার সম্পদের হিসাবেও পার্থক্যের বিষয়টি সামনে এসেছে। আয়কর রিটার্নে তার মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, অথচ হলফনামায় প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা, ব্যাংক জমা ১ লাখ টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের অংশে উপহার হিসেবে পাওয়া ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষিজমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা।
২০২৫–২৬ করবর্ষে সারজিস আলম আয়কর হিসেবে ৫২ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করেছেন বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণীতে তিনি জানিয়েছেন, চারজন শুভানুধ্যায়ী (আত্মীয় নন) ব্যক্তির কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা উপহার পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। পাশাপাশি একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।
এ ছাড়া শ্বশুর-শাশুড়ি এবং চাচা-মামাদের কাছ থেকেও উপহার হিসেবে অর্থ পাওয়ার তথ্য রয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত স্ক্যান কপিতে কিছু অঙ্ক অস্পষ্ট থাকায় মোট টাকার সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি। দৃশ্যমান সংখ্যার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রত্যেকের কাছ থেকে অন্তত ১ লাখ টাকা করে পাওয়া যেতে পারে। একইভাবে, শ্যালকের কাছ থেকে অন্তত ১ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সব তথ্যের ভিত্তিতে সারজিস আলমের আর্থিক বিবরণী নিয়ে আলোচনা চললেও, দুদক জানিয়েছে—নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।