ইরানের বিরুদ্ধে টানা চারদিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বেড়েছে। এসব হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। এমন পরিস্থিতিতে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, চীন নাকি ইরানকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে এই খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর লাইভ প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Wang Yi স্পষ্টভাবে বলেছেন—ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ বা সামরিকভাবে সহায়তা করছে না চীন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেইজিং কোনো ধরনের সামরিক সহযোগিতায় জড়িত নয়। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে চীন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির পক্ষে নয়।
বর্তমান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে Iran, যার বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে Israel ও United States। এই পরিস্থিতিতে চীন ইতোমধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের জোরালো নিন্দা জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চীনের জন্য এই সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জ্বালানি নিরাপত্তা। দেশটি তাদের মোট তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি করে Hormuz Strait হয়ে। এই প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান পথ। চীন ইরান ছাড়াও ইরাক, সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে তেল আমদানি করে। ফলে অঞ্চলটিতে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে চীনের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর সোমবার ওয়াং ই ওমান, ইরান এবং ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কূটনৈতিক পর্যায়ে সক্রিয় যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বেইজিং।
ওয়াং ই শেষ পর্যন্ত মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কূটনৈতিক পথ থেকে সরে এসেছে। তার মতে, সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই এ ধরনের সংকট সমাধান সম্ভব।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও কৌশলগতভাবে অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বেইজিং যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান চায়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। ফলে বড় শক্তিগুলোর অবস্থান ও বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চীনের সাম্প্রতিক বিবৃতি থেকে স্পষ্ট যে, তারা সরাসরি সামরিক সহায়তায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করছে এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, চলমান এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কত দ্রুত একটি কার্যকর সমাধানের পথে এগোতে পারে।
কসমিক ডেস্ক