নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে হান্নান মাসউদ-এর গাড়িবহরের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। তিনি বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এই হামলায় জড়িত। এ ঘটনায় হান্নান মাসউদসহ আরও ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। আহতদের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো না হলেও ঘটনাটি রাজনৈতিক সহিংসতার উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা গণতন্ত্র চর্চা ও রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিপন্থি। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর প্রকাশ্যে হামলা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করা হয়। দলটির ভাষ্য, দেশবাসী মনে করে—যেখানে একজন সংসদ সদস্যের মতো জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
জামায়াতে ইসলামী আরও বলে, রাজনৈতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী আইনহীনতার সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করতে পারে, যা জাতির জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দেবে।
বিবৃতিতে অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয় এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
নোয়াখালী অঞ্চলে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রাজনৈতিক বিরোধ ও সহিংসতা নিরসনে সংলাপ ও সহনশীলতার চর্চা বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় স্থানীয় পর্যায়ে অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা দেখা গেলেও তা সহিংস রূপ নেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ক্ষতিকর। তাই দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।
ঘটনাটি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর রয়েছে প্রশাসনের পদক্ষেপ ও তদন্তের অগ্রগতির দিকে।
কসমিক ডেস্ক