জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সাবেক সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১২ জুন) রাত দেড়টার দিকে সিলেট নগরের সোবহানীঘাটস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
শনিবার সকালে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামাতা ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ একাধিক জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত মে মাসে তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা উন্নতি হলেও শুক্রবার দিনের শুরু থেকেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরিবার জানিয়েছে, মরহুমের জানাজা আজ শনিবার বিকেল ৪টায় সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়িতে তার প্রতিষ্ঠিত মাদরাসার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে, বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে।
মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি শুধু রাজনীতিতেই নয়, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নিজ এলাকায় তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় সক্রিয় ছিলেন। এর মধ্যে সিলেট নগরের মিরাবাজার জামেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আল-আমিন জামেয়া স্কুল এবং পাঠানটুলা কামিল মাদ্রাসার মতো প্রতিষ্ঠান গঠনে তার ভূমিকা রয়েছে।
এছাড়া তিনি নিজ গ্রাম কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়িতে একটি ফাজিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন, যা স্থানীয় শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সমাজে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সিলেট অঞ্চলে একজন পরিচিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার অবদান বিশেষ করে শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য বলে অনেকে স্মরণ করছেন।
তার মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন মহলের নেতারা।
কসমিক ডেস্ক