গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে ভোটদান কার্যক্রমের সার্বিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে দলগুলোর কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরাই এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ইসির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অডিটরিয়াম (বেজমেন্ট-২)-এ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি সূত্র জানায়, বৈঠকে পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতির কাঠামো, পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধনের নিয়ম, ভোট প্রদানের ধাপ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের বিস্তারিত অবহিত করা হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে দলগুলোর মতামত ও প্রশ্ন শোনা হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও আপিল শুনানির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে।
ইসি জানিয়েছে, প্রতীক বরাদ্দের পর দেশ ও দেশের বাইরে অবস্থানরত নিবন্ধিত ভোটাররা পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে ভোট প্রদান করতে পারবেন। বিশেষ করে প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি বা প্রশ্ন থাকলে তা আগেই পরিষ্কার করা জরুরি। এ কারণেই নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা ও আস্থার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা নির্বাচনকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে সহায়ক হবে।
ইসি আশা করছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলোর স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাদের সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।
কসমিক ডেস্ক