আফ্রিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে Israel-এর একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ। সোমালিয়া থেকে পৃথক হতে চাওয়া Somaliland-এ দূত নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি, যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে Bangladeshসহ ১২টি মুসলিম দেশ।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব দেশ এই পদক্ষেপের নিন্দা জানায়। নিন্দা জানানো দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে Pakistan, Saudi Arabia, Egypt, Somalia, Sudan, Libya, Algeria, Palestine, Turkey, Indonesia এবং Kuwait।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের দূত নিয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি Somalia-এর সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যায়।
দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাদের যৌথ বিবৃতিতে আরও বলেন, কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করে বা তার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করে—এমন একতরফা পদক্ষেপ তারা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
তারা সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিল সংকটের জন্ম দিতে পারে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই সিদ্ধান্ত United Nations সনদ এবং African Union-এর সংবিধানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল ইতোমধ্যেই নানা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটে জর্জরিত। এর মধ্যে সোমালিল্যান্ড ইস্যু নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও আন্তর্জাতিকভাবে এটি এখনো স্বীকৃত রাষ্ট্র নয়। অধিকাংশ দেশই এটিকে সোমালিয়ার অংশ হিসেবেই বিবেচনা করে।
এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের দূত নিয়োগের উদ্যোগকে অনেকেই একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা আফ্রিকায় তাদের কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টা হতে পারে।
অন্যদিকে, সমালোচকদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক বিরোধকে আরও উসকে দিতে পারে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে, সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের দূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে, যার প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে।