ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নাটোর-২ সদর আসনের নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যাপক ইউনুস আলী কেন্দ্র পরিদর্শন করার সময় প্রার্থীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এবং যুবদলের ১০–১২ জনের মধ্যে তর্কে উত্তেজনা দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই উত্তেজনা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। তখন দৈনিক সংগ্রামের সাংবাদিক জোবায়ের ভিডিও ধারন করতে গেলে, বিএনপি সমর্থকরা আনসারের কাছ থেকে লাঠি নিয়ে তার ওপর শারীরিক হামলা চালান। হামলার ফলে সাংবাদিক জোবায়ের গুরুতর লাঞ্ছিত হন।
এ ঘটনায় দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যাপক ইউনুস আলী অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সামনে একজন সাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসন নীরব থাকায় আমি শঙ্কিত। এমন প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না।” অধ্যাপক ইউনুস আলী প্রশাসনের প্রতি জোর দিয়ে বলেছিলেন, নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলামকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে চলে যান। সাংবাদিকের সঙ্গে সংঘটিত এই হামলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তা স্পষ্ট।
নাটোরে নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন্দ্রে মোতায়েন থাকে। তবে এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ভোটকেন্দ্রেও কখনও কখনও প্রশাসনের তৎপরতার অভাব বা অনীহা ভোটার ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সাংবাদিক জোবায়েরের ওপর হামলার এই ঘটনা নির্বাচনী দিন চলাকালীন সময়ের জন্য নাটোর-২ আসনে উত্তেজনা ও সঙ্কটের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং তাদের কাজ নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার অধিকার রক্ষার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া জরুরি।
এই ঘটনায় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের আচরণ, প্রশাসনের উপস্থিতি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সম্প্রদায়। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মিডিয়াকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং কোনো প্রভাববৃদ্ধি ছাড়া নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনকে সক্রিয় হতে হবে।
নাটোর-২ কেন্দ্রে এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই প্রার্থী, রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে নিরাপদ ও সুষ্ঠু ভোট পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।