বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় একটি মাদ্রাসা ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুই লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসায়। সেখানে চারতলা বিশিষ্ট একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওসমান আলীর মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ৭-৮ জন লোক দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঠিকাদার এস এম বদিউজ্জামান বলেন, দরপত্রের সব নিয়ম মেনে কাজ পরিচালিত হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীরা নিয়মিতভাবে চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ পরিস্থিতিতে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বুধবার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান চাঁদা দাবি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নির্মাণকাজে অনিয়ম থাকায় কাজ বন্ধ করা হয়েছে। তার দাবি, চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এদিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী বলেন, প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ম অনুযায়ীই পরিচালিত হচ্ছিল। কাজের মান বা প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। তবে স্থানীয় কিছু লোকজন চাঁদা দাবি করেছেন—এমন কথা শুনেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এ ধরনের ঘটনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে ঠিকাদারের পক্ষ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা হয়েছে, অন্যদিকে অভিযুক্ত নেতা তা অস্বীকার করে কাজের অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। ফলে ঘটনাটি এখন তদন্তসাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালানো হচ্ছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং মাদ্রাসার ভবন নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।
সার্বিকভাবে, চাঁদা দাবি ও অনিয়মের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে মোরেলগঞ্জের গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসার চারতলা ভবন নির্মাণকাজ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
কসমিক ডেস্ক