বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কারাবন্দি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নমিনেশন পেপারে স্বাক্ষর করতে ব্যক্তিগত অনুমতি না পাওয়ায় তার পক্ষে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ব্যারিস্টার সুমনের অ্যাসোসিয়েট আইনজীবী মো. লিটন আহমেদ এই রিটটি হাইকোর্টে দাখিল করেন। এর আগে ১২ এপ্রিল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিল। তবে সেই আবেদনের কোনো সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হতে হয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, কারাবন্দি অবস্থায় থাকা ব্যারিস্টার সুমনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে নমিনেশন পেপারে স্বাক্ষর করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে প্রয়োজনীয় অনুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, এই ধরনের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে রয়েছে।
আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর এ বিষয়ে অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করে। ফলে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার জন্য হাইকোর্টে রিট করা হয়।
এই রিটে আইন সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব এবং ঢাকা জেলার ডেপুটি কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে। আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে যাতে ব্যারিস্টার সুমনকে তার প্রার্থী হওয়ার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা বা অনুমতি নিশ্চিত করা হয়।
উল্লেখ্য, আগামী ১৯ মে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনটি ঘিরে আইনজীবী মহলে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
বার কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা অনুষ্ঠিত হয় ২ এপ্রিল। সভায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ও বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)। সভায় নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এই পরিস্থিতিতে কারাবন্দি অবস্থায় একজন আইনজীবীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া যাবে কি না—তা এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। রিট আবেদনটি বিচারাধীন থাকায় পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনজীবী মহলে এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির প্রার্থী হওয়ার বিষয় নয়, বরং নির্বাচনী অধিকার ও আইনি প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
এখন সকলের নজর হাইকোর্টের দিকে, যেখানে এই রিটের ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে ব্যারিস্টার সুমনের নির্বাচনী ভবিষ্যৎ