ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবারও পিছিয়েছে। আদালত ১৫তম বারের মতো সময় পরিবর্তন করে আগামী ১৭ জুন নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে।
রবিবার (৭ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি))-এর তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মেট্রো (পূর্ব)-এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, মামলার তদন্তে বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রগতি হলেও আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বারবার সময় বাড়ানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত প্রথমে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দ্বারা পরিচালিত হয় এবং পরে আদালতের নির্দেশে সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জানা যায়, মামলায় প্রথমে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে ডিবি পুলিশ। তবে ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মামলার বাদীপক্ষ, অর্থাৎ ইনকিলাব মঞ্চ। এরপর আদালতে নারাজি আবেদন করা হয় এবং নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য নির্ধারিত থাকলেও সময় চাওয়ার কারণে তা পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু সেদিনও বাদীপক্ষ ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে অসন্তোষ জানিয়ে নতুন তদন্তের আবেদন করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে মামলাটি নতুনভাবে সিআইডির অধীনে তদন্ত শুরু হয়।
মামলার মূল ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগের সময় শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে স্থানান্তর করা হলেও পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়, পরে সেটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
ডিবি পুলিশের তদন্ত শেষে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও মামলাটির তদন্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, পূর্বপরিকল্পনা এবং নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠে আসে।
তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ভয়ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছিল। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে মামলাটির অধিকতর তদন্ত এখনো সম্পূর্ণ না হওয়ায় আদালত বারবার সময় দিচ্ছে। এতে বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ধীর হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এবং আগামী ১৭ জুন অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক