ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি বাজারেও। ফলে রাজধানীর অনেক পেট্রোল পাম্পে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি এবং কোথাও কোথাও তেল একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
সরকার গত শুক্রবার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ শুরু করার আগে হঠাৎ করে প্যানিক বায়িং শুরু হয়। এতে করে অনেক পাম্পেই তেল দ্রুত শেষ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা তখন জানিয়েছিলেন, শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির কারণে ডিপো থেকে তেলবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। তাই ছুটির পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
তবে সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পাম্পেই এখনো তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। কোথাও আবার তেল পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।
অনেক পাম্পেই তেল নেই
রাজধানীর এয়ারপোর্ট এলাকার পাশাপাশি অবস্থিত ডি এল ফিলিং স্টেশন ও মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশন—দুই পাম্পেই সোমবার সকাল থেকে তেল পাওয়া যায়নি।
ডি এল ফিলিং স্টেশনের একজন কর্মী জানান, গতকাল একটি মাত্র তেলের গাড়ি এসেছিল, যা সেদিনই শেষ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিদিন অন্তত ছয়টি তেলের গাড়ি প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেখানে মাত্র একটি গাড়ি এসেছে। এত কম তেল দিয়ে স্বাভাবিক সরবরাহ রাখা সম্ভব নয়।”
মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশনেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। পাম্পটির কর্মীরা জানিয়েছেন, দুপুর নাগাদ নতুন তেলের গাড়ি এলে আবার সরবরাহ শুরু করা যাবে।
গ্রাহকদের ক্ষোভ
শুক্র ও শনিবারের ছুটির কারণে তেলের গাড়ি না আসার যুক্তি মেনে নিয়ে অনেক গ্রাহক সোমবার থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তা না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
ডি এল ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা গ্রাহক মুকুল বলেন, “পাম্পগুলো বলেছিল ছুটির পর তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। কিন্তু এখানে এসে দেখি তেলই নেই। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি।”
আরেক গ্রাহক মো. সগীর বলেন, “টঙ্গীর কয়েকটি পাম্পে তেল পাইনি, তাই এখানে এসেছি। কিন্তু এখানেও নেই। বলছে গাড়ি এলে তেল পাওয়া যাবে।”
কিছু পাম্পে সরবরাহ স্বাভাবিক
তবে সব পাম্পেই একই পরিস্থিতি নয়। রাজধানীর বিজয় সরণিতে অবস্থিত ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনে তেল সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে।
পাম্পটির কর্মচারী লিটন জানান, তাদের এখানে চাহিদা অনুযায়ী তেলের গাড়ি আসছে। তাই গ্রাহকরা নিয়মিত তেল নিতে পারছেন।
তিনি বলেন, একটি তেলের গাড়িতে সাধারণত প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ লিটার তেল থাকে। রেশনিং পদ্ধতিতে এই তেল দিয়ে প্রায় ৬ হাজার ৭৫০টি মোটরসাইকেল অথবা প্রায় ১ হাজার ৩৫০টি গাড়িকে তেল দেওয়া সম্ভব।
সংকটের কারণ কী
পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির (একাংশ) সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম বলেন, মূলত ডিপো থেকে কম তেল সরবরাহ করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “ধরুন একটি গাড়ির ধারণক্ষমতা যদি চার হাজার লিটার হয়, তাহলে সেখানে মাত্র এক হাজার লিটার দেওয়া হচ্ছে। এতে করে পাম্পগুলো চাহিদা মেটাতে পারছে না।”
তিনি আরও বলেন, বিদেশ থেকে তেলবাহী জাহাজ দেশে এলেও কাস্টমস প্রক্রিয়া ও ডিসচার্জ শেষে পাম্প পর্যন্ত পৌঁছাতে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই বিষয়টি না বুঝে আতঙ্কে বেশি তেল কিনতে শুরু করছেন।
বিপিসির বক্তব্য
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করায় অনেক জায়গায় দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।
তবে তিনি দাবি করেন, দেশে তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন শিপমেন্টে আরও তেল দেশে এসেছে এবং খুব শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
কসমিক ডেস্ক