তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়াল, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়াল, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 30, 2026 ইং
তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়াল, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, Brent crude oil-এর দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে এই অবস্থানে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দামও প্রায় ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৩ ডলারে উঠেছে। এর ফলে ব্রেন্ট তেল ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাসিক লাভের দিকে এগোচ্ছে।

তেলের দামের এই উত্থানের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ ইরান হুমকি দিয়েছে যে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে এখানে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

শুধু তেলবাজারই নয়, এর প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ৪.৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক প্রায় ৪ শতাংশ কমে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের প্রতিফলন।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।

এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বে আরও প্রায় ১০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। ফলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ একসঙ্গে ঝুঁকির মুখে পড়লে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্রেন্ট তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭২ ডলার। পরে ১৮ মার্চ তা বেড়ে ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ ছিল।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক বক্তব্যও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তেল অবকাঠামো দখলের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংঘাত কমানোর উদ্যোগ না নেওয়া হলে সামনে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
রমজানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: ইশরাক

রমজানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: ইশরাক