মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর দেশটির উপকূলীয় নজরদারি ও রাডার স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
রয়টার্সকে দেওয়া এক মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে চারটি ইরানি ড্রোন বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত হয়েছে। এই ঘটনার পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত নজরদারি চৌকিগুলোর ওপর বিমান হামলা পরিচালনা করে।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও সামরিক উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বহন করে আসছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। বর্তমানে অঞ্চলটির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজার ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে ইরান তাদের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আটকে থাকা বিপুল অঙ্কের তেল রাজস্বের অংশ দাবি করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানি মূল্যের ওপরও পড়েছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়ছে। এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন অভিযানে ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে। তবে তার মতে, ইরানের মোট ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ এখনো অবশিষ্ট রয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান একটি গর্বিত ও শক্তিশালী জাতি হওয়ায় চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তাদেরকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে, যা ভবিষ্যৎ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কসমিক ডেস্ক