পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর মিরপুরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিবন্ধী বেলু ও অসহায় শাহানার হাতে তুলে দিয়েছেন ঈদের বাজার ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে নেওয়া এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়ে নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংগঠনের সদস্যরা মিরপুর এলাকার বিভিন্ন অসহায় পরিবারের খোঁজখবর নিতে গিয়ে জানতে পারেন প্রতিবন্ধী বেলু ও শাহানার কঠিন জীবনসংগ্রামের কথা। পরে তাদের জন্য বিশেষভাবে ঈদের বাজারের ব্যবস্থা করা হয়।
জানা যায়, প্রতিবন্ধী বেলু জন্মগতভাবেই শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার। তার একটি পা নেই। শারীরিক সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রতিদিন জীবিকার জন্য সংগ্রাম করতে হয় তাকে। সামান্য উপার্জনের জন্য তিনি ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল। জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতায় ঈদ এলেও পরিবারের জন্য নতুন কিছু কেনার সামর্থ্য ছিল না তার। প্রতিদিনের আয় দিয়েই কোনোমতে খাবার জোগাড় করাই ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এমন পরিস্থিতিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বেলু। ঈদের আগে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং সংগঠনের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, এ ধরনের সহায়তা শুধু খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অসহায় মানুষের মনে নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস ও আশার আলো জাগিয়ে তোলে।
অন্যদিকে শাহানা মানুষের বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালান। কঠোর পরিশ্রম করেও বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে পরিবারের চাহিদা পূরণ করা তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ঈদের সময় পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় বাজার করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে ঈদের বাজার পেয়ে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এই সহায়তা তার পরিবারের জন্য অনেক বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
সংগঠনের সদস্যরা জানান, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ যদি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে ঈদের আনন্দ সত্যিকার অর্থেই সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। তারা আরও বলেন, মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই বসুন্ধরা শুভসংঘ ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য।
স্থানীয় বাসিন্দারাও সংগঠনটির এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বর্তমান সময়ে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত প্রয়োজন। ঈদের মতো উৎসবের আনন্দ কেবল সামর্থ্যবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মানবিক সহায়তা পাওয়ার পর প্রতিবন্ধী বেলু ও শাহানার মতো মানুষদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। ঈদের আগে এমন সহযোগিতা তাদের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সমাজের অন্যান্য সংগঠন ও বিত্তবান মানুষও এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে এলে আরও অনেক অসহায় পরিবার উপকৃত হবে।
কসমিক ডেস্ক