রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে আবারও হামলার শিকার হয়েছে একটি বেসামরিক মালবাহী জাহাজ। ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলে নোঙর করে থাকা টোগোর পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে রুশ হামলায় অন্তত তিনজন ক্রু নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৩ জুলাই) ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা এবং ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপার পৃথক বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় জাহাজটি ওডেসা অঞ্চলে নোঙর করা ছিল। এটি টোগোর পতাকাবাহী একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজ, যা খনিজ সার বহন করছিল। হামলার ফলে জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি তিনজন ক্রু ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং আরও পাঁচজন আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ওডেসা অঞ্চল কৃষ্ণসাগর উপকূলে ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এলাকা। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই অঞ্চল বহুবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য, সার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের কারণে ওডেসার সমুদ্রবন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গভর্নর ওলেহ কিপার বলেন, হামলার শিকার জাহাজটি সম্পূর্ণ বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং এতে কোনো সামরিক সরঞ্জাম ছিল না। জাহাজটি খনিজ সার পরিবহনের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় বন্দরে নোঙর করা ছিল।
এদিকে হামলার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার ধরন, ব্যবহৃত অস্ত্র বা লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে খাদ্যশস্য, সার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের রপ্তানির ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দর ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো একাধিকবার হামলার মুখে পড়েছে। এসব হামলার কারণে কৃষ্ণসাগর দিয়ে পণ্য পরিবহন এবং বৈশ্বিক খাদ্য ও সার সরবরাহ ব্যবস্থাও বারবার বিঘ্নিত হয়েছে।
সর্বশেষ এই হামলায় প্রাণহানি ও আহতের ঘটনায় ওডেসা অঞ্চলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
কসমিক ডেস্ক