ইউরোপে প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনায় ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে দেশটির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আলি নাসিমফারকে তলব করেছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে ডেকে এ বিষয়ে সরকারের উদ্বেগ জানানো হয়।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কুদস ফোর্স চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর জন্য একটি প্রক্সি গোষ্ঠীকে নির্দেশ দিয়েছিল বলে তাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত গোষ্ঠীর নাম ‘ইসলামিক মুভমেন্ট অব দ্য কম্প্যানিয়নস অব দ্য রাইট’। ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, একাধিকবার সতর্ক করার পরও ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের কথিত শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করেনি। বরং ইউরোপে এসব তৎপরতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে লন্ডন।
তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। লন্ডনে ইরানি দূতাবাসের সঙ্গেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অনুরূপ অভিযোগও অস্বীকার করে জানিয়েছিল, তারা বিদেশে হামলা চালাতে কোনো প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করে না।
এদিকে, এর একদিন আগে নতুন আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করে আইআরজিসি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ঘোষণা করে ব্রিটিশ সরকার। সরকারের দাবি, বিদেশি রাষ্ট্রগুলো যাতে প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে নজরদারি, নাশকতা বা গোপন অভিযান পরিচালনা করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ব্রিটেনের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একটি আনুষ্ঠানিক অংশ। তাই একটি রাষ্ট্রীয় সামরিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, কুদস ফোর্স আইআরজিসির একটি বিশেষ শাখা, যা ইরানের বাইরে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আগেই আইআরজিসিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের নিরাপত্তা, প্রক্সি গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
কসমিক ডেস্ক