বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন দর্শকদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে যাতায়াত ব্যয়। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টে ম্যাচের টিকিটের পাশাপাশি এখন পরিবহন খরচও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটি থেকে মেটলাইফ স্টেডিয়াম-এ যাতায়াতের ট্রেন ভাড়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। যেখানে সাধারণ সময়ে মাত্র ১২.৯০ ডলারে যাতায়াত সম্ভব, সেখানে বিশ্বকাপ উপলক্ষে একই যাত্রার জন্য গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৫০ ডলার (রিটার্ন)। অর্থাৎ, ভাড়া বেড়েছে প্রায় ১২ গুণ।
মাত্র ১৫ মিনিটের এই স্বল্প দূরত্বের যাত্রায় এত বেশি ভাড়া নির্ধারণ করায় দর্শকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। আয়োজকদের মতে, স্টেডিয়ামে পার্কিং সুবিধা সীমিত থাকায় প্রতি ম্যাচে প্রায় ৪০ হাজার দর্শক গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করবেন। ফলে অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হবে মোট ৮টি ম্যাচ, যার মধ্যে ফাইনালও রয়েছে। ফলে দর্শকদের চাপ এখানে সবচেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে নিউ জার্সি ট্রানজিট জানিয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টে দর্শকদের পরিবহন নিশ্চিত করতে তাদের প্রায় ৬২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। এর মধ্যে মাত্র ১৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে। সংস্থাটির প্রধান ক্রিস কলুরি বলেন, “এটি কোনো বাড়তি মুনাফার চেষ্টা নয়, আমরা শুধু খরচ তুলতে চাই।”
তবে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন মিকি শেরিল। তার মতে, এই ব্যয় বহন করা উচিত বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা-র। তিনি বলেন, নিয়মিত যাত্রীদের ওপর এমন চাপ দেওয়া মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়।
শুধু নিউইয়র্ক নয়, বস্টন-এর কাছাকাছি জিলেট স্টেডিয়াম-এ ম্যাচ দেখতে যেতেও বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে দর্শকদের। সেখানে এক্সপ্রেস বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৫ ডলার, আর ট্রেনের রিটার্ন টিকিট ৮০ ডলার—যা সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।
তবে সব শহরে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। লস অ্যাঞ্জেলেস, আটলান্টা, হিউস্টন এবং ফিলাডেলফিয়া-এর মতো শহরগুলোতে গণপরিবহনের ভাড়া অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর।
অন্যদিকে কানসাস সিটি-তে স্টেডিয়ামে যাতায়াতের জন্য বিশেষ শাটল সার্ভিস চালু করা হয়েছে, যেখানে রিটার্ন ভাড়া মাত্র ১৫ ডলার রাখা হয়েছে—যা তুলনামূলকভাবে অনেক সাশ্রয়ী।
এদিকে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার মুখে ফিফা জানিয়েছে, তারা পরিবহন খরচ বহন করবে না। তাদের দাবি, ২০১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী আয়োজক শহরগুলোকেই দর্শকদের পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজন উপভোগ করতে গিয়ে দর্শকদের এখন শুধু ম্যাচের টিকিট নয়, বরং যাতায়াত খরচও হিসাবের বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেকের জন্য স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখা এখন বিলাসিতার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক