মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে দোকানগুলোর আসবাবপত্র, পণ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থসহ সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সিংগাইর বাসস্ট্যান্ড এলাকার এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে প্রথমে কালাচাঁন মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে কালাচাঁন মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, নিমাইচাঁন মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, এবং দুইটি মুদিমাল দোকান। এসব দোকানের স্বত্বাধিকারীরা হলেন রাজিব ঘোষ, জয়ন্ত ঘোষ (দিব), তৌহিদুর রহমান তুহিন এবং বাবুল হোসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আগুন লাগার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত নিজেদের দোকান থেকে মালামাল সরানোর চেষ্টা করেন, তবে আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে কোনো কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে চারটি দোকানই সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানের সব পণ্য, আসবাবপত্র এবং দিনের আয়সহ নগদ অর্থ পুড়ে গেছে। এতে আনুমানিক ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসা মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে বলে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।
একজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বলেন, তারা এই দোকান থেকেই পরিবার চালাতেন। এখন সব হারিয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। দ্রুত পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে সরকারি ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
সিংগাইর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. মহিবুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে সঠিক কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কসমিক ডেস্ক