আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। তালেবান বাহিনীর হঠাৎ হামলার জবাবে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বৃহস্পতিবার রাতেই ‘গাজাব-লিল-হক’ নামে একটি বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করেছে। ইসলামাবাদ সরকার জানিয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংঘর্ষটি সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
শুক্রবার আলজাজিরা এবং জিওটিভি নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক গণমাধ্যম মুখপাত্র মুশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, ভোর ৩টা ৪৫ পর্যন্ত পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হচ্ছে।
জাইদি দাবি করেছেন, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, এ হামলায় ২৭টি তালেবান চৌকি ধ্বংস এবং ৯টি দখল করা হয়েছে। এছাড়া দুটি কোর সদর দপ্তর, তিনটি ব্রিগেড সদর দপ্তর, দুটি গোলাবারুদ ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, তিনটি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর এবং দুটি সেক্টর সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় ৮০টির বেশি ট্যাংক, কামান ও সাঁজোয়া যানও ধ্বংস হয়েছে বলে জানানো হয়।
সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, পাকিস্তানি বিমান আবারও কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বোমাবর্ষণ চালিয়েছে।
পাকিস্তানের খাজা আসিফ এক্সে লিখেছেন, এটি এখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মধ্যে ‘খোলা যুদ্ধ’। তিনি দাবি করেছেন, পাকিস্তান সমুচিত জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে তালেবান সরকার-এর মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, আফগান বাহিনী ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বৃহৎ পরিসরের আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্তে এই তীব্র সংঘর্ষ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট আরও গভীর করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যেই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক