কলকাতার সমকালীন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম স্বতন্ত্র ও জনপ্রিয় নির্মাতা অনীক দত্ত আর নেই। বুধবার (২৭ মে) দুপুরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গণমাধ্যম ও পারিবারিক সূত্র তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় প্রতিবেদনে জানা যায়, হিন্দুস্তান পার্ক এলাকার নিজ বাসভবনের ছাদ থেকে পড়ে যান এই নির্মাতা। পরে দ্রুত তাঁকে ঢাকুরিয়ার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করেন। দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, অনীক দত্ত দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এই শারীরিক জটিলতার মধ্যেই তাঁর আকস্মিক মৃত্যু চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
অনীক দত্ত বাংলা চলচ্চিত্রে এক ব্যতিক্রমী নির্মাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর নির্মিত ২০১২ সালের ছবি Bhooter Bhobishyot তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। ভৌতিক গল্পের আড়ালে সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গের মিশেলে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি বাংলা সিনেমায় একটি উল্লেখযোগ্য কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরবর্তীতে তিনি একই ধরনের ভিন্নধর্মী গল্প বলার ধারা অব্যাহত রাখেন। তাঁর অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, সমাজ ও রাজনীতিনির্ভর ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনা, যা দর্শক ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মূলধারার বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি যে ধরনের গল্প বলতেন, তা বাংলা সিনেমায় একটি স্বতন্ত্র ধারার জন্ম দেয়।
অনীক দত্ত জন্মগ্রহণ করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। চলচ্চিত্রে আসার আগে দীর্ঘ সময় তিনি একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কপিরাইটার হিসেবে কাজ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর সিনেমার সংলাপ, দৃশ্য নির্মাণ ও গল্প বলার ভঙ্গিতে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছিল।
তাঁর চলচ্চিত্রে ব্যঙ্গ, সমাজ-রাজনীতি, সাহিত্যনির্ভর গল্প এবং সূক্ষ্ম রসবোধ একসঙ্গে মিশে থাকত। ফলে তিনি শুধু একজন পরিচালকই নন, বরং সমকালীন সমাজ বাস্তবতার এক সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ সাংস্কৃতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, শিল্পী ও দর্শকরা সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করছেন তাঁর সৃষ্টিশীলতা, ব্যতিক্রমী চিন্তা এবং চলচ্চিত্রের প্রতি অবদানের জন্য।
অনীক দত্তের মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
কসমিক ডেস্ক