আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক কোটিপতি রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষিত ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫০১ জনের সম্পদের পরিমাণ এক কোটি টাকার বেশি। শতাংশের হিসাবে যা মোট বৈধ প্রার্থীর ২৭ দশমিক ১৯ ভাগ।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। হলফনামায় প্রার্থীরা আয়, সম্পদ, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মামলা সংক্রান্ত তথ্যসহ ব্যক্তিগত নানা তথ্য উল্লেখ করেছেন।
দলভিত্তিক হিসাবে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ২১২ জন প্রার্থী কোটিপতি। এরপর জামায়াতে ইসলামীর ৬৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৫ জন, জাতীয় পার্টির ৩০ জন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ১২ জন প্রার্থী কোটিপতি হিসেবে তালিকাভুক্ত। গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) ৫ জন করে এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ৪ জন প্রার্থীও এই তালিকায় রয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কোটিপতি রয়েছেন ৫৮ জন, আর অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ৭১ জন প্রার্থী কোটিপতি।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শতকোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন। সম্পদের পরিমাণে শীর্ষে আছেন চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। তাঁর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৬৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে—১৪৩ জন। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ১১৪ জন। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে রংপুরে ৫১, রাজশাহীতে ৪৭, খুলনায় ৪০, বরিশালে ৩৯, সিলেটে ৩৭ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন।
জেলাভিত্তিক হিসাবে বান্দরবান ছাড়া দেশের সব জেলাতেই অন্তত একজন করে কোটিপতি প্রার্থী আছেন। সবচেয়ে বেশি কোটিপতি প্রার্থী ঢাকা জেলায়—৫১ জন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হলফনামায় ঘোষিত সম্পদের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, অসত্য বা গোপন তথ্য প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিল এমনকি নির্বাচিত হওয়ার পরও সংসদ সদস্যপদ বাতিলের বিধান রয়েছে।
নির্বাচনী ব্যয় ও সম্পদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন সুশাসন ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।
কসমিক ডেস্ক