সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি, পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং অন্যান্য মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এটি বাংলাদেশ পুলিশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতার প্রতিফলন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও এবং জামালপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক ১৩১ জন নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর শক্ত অবস্থানের কারণে এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
একই সময়ে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে ৮৯ জনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করা হয় এবং ২১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সফলভাবে প্রত্যাবাসন করা হয় বলেও তিনি জানান।
উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিতে ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৭তম বিজিবি–বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশ পক্ষ থেকে সীমান্ত হত্যা এবং পুশইনের মতো বিষয়গুলোতে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়।
তিনি আরও জানান, সীমান্তে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, চোরাচালান প্রতিরোধ, সমন্বিত টহল জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত ইস্যু ও আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত—দুই ক্ষেত্রেই সরকারের সাম্প্রতিক অবস্থান আইন প্রয়োগ ও কূটনৈতিক তৎপরতার একটি সমন্বিত চিত্র তুলে ধরছে।
সব মিলিয়ে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান আবারও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
কসমিক ডেস্ক