পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বিধায়ককে বহিষ্কারের ঘটনায়। দলবিরোধী কর্মকাণ্ড ও বিতর্কিত স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তিতে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক Ritabrata Banerjee এবং এন্টালির বিধায়ক Sandipan Saha–কে দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
দলের সহসভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত দুই বিধায়ককে জানানো হয় এবং একই সঙ্গে বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারকেও অবহিত করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মূলত বিধানসভায় একটি স্বাক্ষর বিতর্ককে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, বিধানসভার ৬ মে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের কার্যবিবরণী হিসেবে ১৯ মে নেওয়া কিছু স্বাক্ষরকে ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি রাজ্য সরকারের সদর দপ্তর নবান্নে পৌঁছায় এবং পরে তদন্ত শুরু করে বিধানসভার সচিবালয় ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এ ঘটনার পরপরই রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে রাজ্য রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
বহিষ্কারের পর প্রতিক্রিয়ায় সন্দীপন সাহা বলেন, যারা অনৈতিক কাজ করে দল তাদের সমর্থন দেয়, আর যারা নৈতিক অবস্থান নেয় তাদের বহিষ্কার করা হয়। তিনি দাবি করেন, একটি হাজিরা খাতার স্বাক্ষরকে ভুলভাবে প্রস্তাব অনুমোদনের স্বাক্ষর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনার তদন্তে সিআইডি একাধিক বিধায়কের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তের আওতায় ছিলেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, তাপস মাইতি ও বাহারুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা। বিশেষ করে বাহারুল ইসলাম দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না, যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করে।
দলীয় সিদ্ধান্তের পর দুই বিধায়ক এখন বিধানসভায় স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। ফলে তারা দলীয় হুইপ বা নির্দেশ মানতে বাধ্য থাকবেন না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দলবিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করেন। যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি, পরবর্তীতে তিনি দুই বিধায়কের বিষয়ে মন্তব্য করেন।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে চাপ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্বাক্ষর বিতর্ক, তদন্ত এবং দলীয় বহিষ্কার—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক