রমজানে সময়ের সঠিক ব্যবহার কেন জরুরি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রমজানে সময়ের সঠিক ব্যবহার কেন জরুরি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 24, 2026 ইং
রমজানে সময়ের সঠিক ব্যবহার কেন জরুরি ছবির ক্যাপশন:

বরকতময় রমজান মাস মুমিনের জীবনে আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ নিয়ে আসে। এই মাসের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। অথচ সঠিক পরিকল্পনা ও সময় ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক সময় এই অমূল্য সময় অবহেলায় কেটে যায়। ইসলাম সময়ের গুরুত্ব সম্পর্কে আমাদের বারবার সতর্ক করেছে।

এ প্রসঙ্গে মুহাম্মদ ﷺ ইরশাদ করেছেন—

نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ
দুটি নিয়ামতের বিষয়ে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত—সুস্থতা ও অবসর সময়।
(সহিহ বুখারি)

রমজান মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তাই এই মাসে সময় ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে ইবাদতে অধিক মনোনিবেশ করা। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করা যেতে পারে—

১. দৈনন্দিন রুটিন তৈরি

সেহরি থেকে ইফতার এবং ইফতার থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত সময়ের একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করা জরুরি। কখন কুরআন তিলাওয়াত, কখন জিকির, কখন বিশ্রাম—এসব নির্ধারিত থাকলে সময়ের অপচয় কমে যায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন—
“সময়ের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।” (সুরা আসর: ১–২)

২. সেহরি ও ইফতারের সময়কে কাজে লাগানো

সেহরির আগের সময় দোয়া কবুলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময় কেবল খাবার খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে কয়েক রাকাত তাহাজ্জুদ, তওবা ও ইস্তেগফারে কাটানো উচিত। একইভাবে ইফতারের আগমুহূর্তও আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। রাসুল ﷺ এই সময় দোয়া করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

৩. তিলাওয়াত ও জিকিরে অভ্যস্ত হওয়া

রমজান হলো কুরআনের মাস। প্রতিদিন অন্তত নির্দিষ্ট পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত করার চেষ্টা করা উচিত। কাজের ফাঁকে বা চলার পথে জিকির ও তাসবিহ পাঠ করলে সময় বরকতময় হয়। রাসুল ﷺ বলেছেন—
“যার শেষ কথা হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”

৪. অনর্থক কাজ ও সোশ্যাল মিডিয়া পরিহার

আধুনিক সময়ে স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের অনেক মূল্যবান সময় কেড়ে নেয়। রমজানে অনর্থক চ্যাটিং, গিবত কিংবা অপ্রয়োজনীয় ভিডিও দেখা থেকে বিরত থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, সিয়াম শুধু না খেয়ে থাকার নাম নয়; বরং চোখ, কান, জিহ্বা ও অন্তরকে পাপ থেকে সংযত রাখার নাম।

৫. শেষ দশকের জন্য আগাম প্রস্তুতি

রমজানের শেষ দশকে রয়েছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত—লাইলাতুল কদর। তাই মধ্য রমজান থেকেই শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। রাসুল ﷺ শেষ দশকে ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত হতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে তুলতেন।


উপসংহার

সময় এমন এক অমূল্য সম্পদ, যা একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। রমজান মাসের বরকত, রহমত ও মাগফিরাত লাভ করতে হলে সময়ের সঠিক বণ্টন অপরিহার্য। দুনিয়াবি ব্যস্ততা কিছুটা কমিয়ে আখিরাতের পুঁজি জমানোর চেষ্টা করলেই সিয়াম সাধনা সার্থক হবে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে এই পবিত্র মাসে সময়ের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার তৌফিক দান করেন—আমিন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে ইউজিসি আনছে সর্বজনীন নীতিমালা

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে ইউজিসি আনছে সর্বজনীন নীতিমালা