যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন শান্তিচুক্তির মাধ্যমে ইরান সরকার আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তার মতে, এই ধরনের চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের জন্য একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম থাকে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তাহলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। এতে লেবানন ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
লিন্ডসে গ্রাহাম আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি করা উচিত নয়, যা দেশটিকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ দেয়। তার মতে, এতে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়বে এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, জিম্বাবুয়েতে ইরানের দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে আগের মতো পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান কেবল যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের মতো জাহাজ চলাচলের সংখ্যা স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে পুরোপুরি ‘মুক্ত চলাচল’ চালু হবে। বরং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের রুট, সময়সূচি এবং অনুমতি ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ হওয়ায় এই ইস্যু ঘিরে যে কোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক