ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেন বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।
মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৫। গণভোটে অংশগ্রহণ করেছেন মোট ভোটারের ৬০.২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন এবং ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন।
‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের তৃতীয় ধাপ শুরু হবে। এর মধ্যে ১৯টি সংস্কার মৌলিক হিসেবে চিহ্নিত। প্রধানমন্ত্রীর একাধিক মেয়াদ সীমিত হবে (সর্বোচ্চ ১০ বছর), একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের দায়িত্ব একসঙ্গে রাখতে পারবে না এবং প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা নির্বাহী ক্ষমতার কিছুটা পুনর্বিন্যাস করা হবে।
সংস্কারের ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাবে। রাষ্ট্রপতি মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগ নিজ এখতিয়ারে করতে পারবেন।
এছাড়া সংসদে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা বাড়বে, যা রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে।
‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় আগামী সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হবে এবং সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসবে। কোনো এক দলের প্রস্তাবে সংবিধান সংশোধন করা সহজ হবে না।
সংবিধান সংস্কারের তিনটি ধাপের মধ্যে, প্রথম ধাপে রাষ্ট্রপতি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছিলেন, দ্বিতীয় ধাপে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, আর তৃতীয় ধাপে জাতীয় সংসদ নির্বাচিত সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। প্রথম অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি সংস্কার সম্পন্ন না হয়, তার জন্য আদেশে কোনো স্পষ্ট নির্দেশ নেই।
কসমিক ডেস্ক