কুমিল্লা সদরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক বিএনপি নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৩১ মে) রাতে উপজেলার গোলাবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আটক ব্যক্তির নাম মো. মোস্তাক (৫০)। তিনি কুমিল্লার পাঁচথুবী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে। তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অধীন ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে গোলাবাড়ি এলাকায় অবস্থানরত মোস্তাক মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
Cumilla Kotwali Model Police Station পুলিশ জানায়, সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় এখানে মাদক চোরাচালান রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে কুমিল্লা আদর্শ সদর বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্ব জানায়, তারা বিষয়টি জেনেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংশ্লিষ্ট কিছু গোপন কার্যক্রম চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানে সেই চক্রের একটি অংশ ধরা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ সূত্র বলছে, ইয়াবা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর মাধ্যমে চোরাচালান হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে তা সমাজে আরও বেশি আলোচনার জন্ম দেয়। তবে তদন্ত ও আদালতের রায় ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয় বলেও তারা মত দেন।
বর্তমানে গ্রেপ্তার মোস্তাক পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কসমিক ডেস্ক