রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪ হাজার ৩৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক আন্তর্জাতিক মাদক চোরাকারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আটক ব্যক্তির নাম সাইদুল ইসলাম (৩১)। তার বাড়ি ঢাকার দোহার এলাকায় বলে জানা গেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) রাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি রেইডিং টিম বিমানবন্দর থানার আওতাধীন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে অবস্থান নেয়। বিমানবন্দরের দ্বিতীয় তলার সি-২ বোর্ডিং ব্রিজ স্ক্যানিং মেশিনের সামনে তারা নজরদারি শুরু করে।
এ সময় ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদগামী ফ্লাইট নম্বর BS381-এর একজন যাত্রী বোর্ডিং ব্রিজের ৫ নম্বর স্ক্যানিং মেশিন অতিক্রম করার সময় তাকে সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তাকে আটক করে তার ব্যাগ তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির সময় ব্যাগের ভেতর থেকে কার্বন ও স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো পলিথিন প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। ওই প্যাকেটের ভেতরে লুকানো অবস্থায় মোট ৪ হাজার ৩৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সাইদুল ইসলাম জানান, সালাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি তাকে এই প্যাকেটটি দিয়েছিলেন। নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি এই ইয়াবাগুলো সৌদি আরবে অবস্থানরত নুরুল আমীনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।
এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি আরও স্বীকার করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাংলাদেশ থেকে ইয়াবা সৌদি আরবে নিয়ে যেতেন। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরব থেকে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা পাচারের বিনিময়ে তিনি সৌদি আরব থেকে স্বর্ণ এনে বাংলাদেশে পৌঁছে দিতেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। পুরো চক্রটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
এ ঘটনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শিবনাথ কুমার সাহা বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার মাধ্যমে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক রুটে মাদক পাচার ও স্বর্ণ চোরাচালান রোধে বিমানবন্দরে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত অভিযান এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।
কসমিক ডেস্ক