জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা বাংলাদেশের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা বাংলাদেশের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা বাংলাদেশের ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করতে আগ্রহ দেখিয়েছে ঢাকা। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের তৈরি জেএফ-১৭ ‘থান্ডার’ যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে দুই দেশের বিমানবাহিনীর নেতৃত্বের মধ্যে।

পাকিস্তান সফররত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবার সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরে তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সম্ভাব্য ক্রয়সহ সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে শুধু যুদ্ধবিমান ক্রয় নয়, বরং প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, অপারেশনাল সমন্বয়, পুরোনো বিমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং রাডার ও আকাশ নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই পক্ষই বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অ্যারোস্পেস প্রযুক্তিতে যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর একমত পোষণ করে।

সফরকালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান বৈঠকে তাদের সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এতে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে উন্নত উড্ডয়ন ও বিশেষায়িত কোর্স অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়।

এছাড়া সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের বিষয়েও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার ব্যবস্থাও থাকবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা ও অপারেশনাল দক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি এসব অভিজ্ঞতা থেকে শেখার আগ্রহ প্রকাশের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পুরোনো বহরের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা এবং আকাশসীমা নজরদারি জোরদারে এয়ার ডিফেন্স রাডার একীভূতকরণের বিষয়ে সহযোগিতা চান।

জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সম্ভাব্য ক্রয় নিয়ে আলোচনা এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই বহুমুখী যুদ্ধবিমানটি ইতোমধ্যে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সামরিক মহড়ায় এর সক্ষমতা প্রদর্শিত হয়েছে।

জেএফ-১৭ থান্ডার একটি মাল্টি-রোল ফাইটার জেট, যা আকাশযুদ্ধ, ভূমিতে আঘাত হানা, শত্রু ঘাঁটির ওপর নির্ভুল হামলা এবং নজরদারির মতো একাধিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। দিন-রাত এবং সব ধরনের আবহাওয়ায় অপারেশন পরিচালনার সক্ষমতাও রয়েছে এই যুদ্ধবিমানের।

প্রযুক্তিগতভাবে জেএফ-১৭ তুলনামূলকভাবে হালকা ওজনের যুদ্ধবিমান। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার এবং টেকঅফের সময় এটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও সরঞ্জাম বহনে সক্ষম। আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় একে নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের কাতারে রাখা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুনভাবে তুলে ধরেছে এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় বাংলাদেশ নতুন যুদ্ধবিমান সংগ্রহে বিকল্প উৎস খুঁজছে। পাকিস্তানের সঙ্গে এই আলোচনা সেই লক্ষ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্ধারিত সময়েই জাতীয় নির্বাচন হবে: মার্কিন বিশেষ দূতকে প্রধ

নির্ধারিত সময়েই জাতীয় নির্বাচন হবে: মার্কিন বিশেষ দূতকে প্রধ