কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পা‌নি বৃ‌দ্ধি, বন্যার শঙ্কা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পা‌নি বৃ‌দ্ধি, বন্যার শঙ্কা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 14, 2026 ইং
কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পা‌নি বৃ‌দ্ধি, বন্যার শঙ্কা ছবির ক্যাপশন:

উজানের ঢল ও টানা ভারি বৃষ্টির প্রভাবে কুড়িগ্রামের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর পানি বাড়তে থাকায় জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তিস্তা, দুধকুমার, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, জেলার বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধরলা নদীর পানি তালুকশিমুলবাড়ী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচে, দুধকুমার নদীর পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার নিচে, ব্রহ্মপুত্র নদ চিলমারী পয়েন্টে ১ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার নিচে এবং তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশেষ করে তিস্তা নদীর অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

ইতোমধ্যে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে সবজি ক্ষেত ও পাটখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদে নদীভাঙনও তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা নদীপাড়ের মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রাজিয়া বেগম জানান, সোমবার রাত থেকে তিস্তার পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে চর বিদ্যানন্দ, চর তৈয়বখাঁসহ আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সরকারি সহায়তা এখনও অপ্রতুল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চর তৈয়বখাঁর কৃষক তোফায়েল হোসেন বলেন, আগের দফার পানি বৃদ্ধিতে তার মরিচক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনও অনেক জমিতে পানি জমে রয়েছে। নতুন করে পানি বাড়তে থাকায় অবশিষ্ট ফসলও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢলে জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে অতিঝুঁকিপূর্ণ ছয় কিলোমিটার এলাকার মধ্যে চার কিলোমিটারে কাজ চলছে এবং বাকি দুই কিলোমিটারের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইউক্রেনকে ৭০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে ন্যাটো

ইউক্রেনকে ৭০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে ন্যাটো