চলমান মাহে রমজানে গাজা, সুদান ও বাংলাদেশ—এই তিন দেশে একযোগে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে টিম হাফেজ্জী। হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (HCSB) পবিত্র এ মাসজুড়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল, সংকটাপন্ন জনপদ এবং দেশের প্রত্যন্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে থেকে ধারাবাহিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি ও কার্যক্রমের বিস্তৃতির দিক থেকে সংস্থাটি এ রমজানে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে পৌঁছেছে। তিন দেশে সমন্বিতভাবে কাজ পরিচালনার মাধ্যমে তারা জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে।
গাজায় সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমতির আওতায়। এটি তাদের কাজের বৈধতা ও স্বচ্ছতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রমজানজুড়ে উত্তর ও মধ্য গাজায় পরিবারভিত্তিক খাদ্য সহায়তা, প্রস্তুতকৃত ইফতার বিতরণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাতটি হাসপাতালে প্রয়োজনভিত্তিক চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। মাঠপর্যায়ের এই তৎপরতা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার গাজা লাইভ কভারেজেও উঠে এসেছে, যা তাদের সক্রিয় উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সুদানে চলমান মানবিক সংকটের মধ্যে বাস্তুচ্যুত ও চরম দুর্ভোগে থাকা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে টিম হাফেজ্জী। খাদ্য প্যাকেজ, জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তা সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সমন্বয় নিশ্চিত করে পুরো রমজান মাসজুড়ে কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে।
দেশীয় কার্যক্রমেও সংস্থাটি ব্যাপক তৎপর। রমজানজুড়ে ধাপে ধাপে এক হাজার অসহায় পরিবারের মধ্যে বাজার সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণ দেওয়া হচ্ছে। নওমুসলিম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেও বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে, যা মানবিক সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতেও সংস্থাটির কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় বড় পরিসরে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন রোগীর জটিল অপারেশনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে টিম হাফেজ্জী। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ উদ্যোগকে জীবন রক্ষাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তরুণদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও সংস্থাটি কাজ করছে। ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় একটি বড় স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যভিত্তিক একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
দানের অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ নিয়মিত আর্থিক অডিট পরিচালনা করে। বার্ষিক ভিত্তিতে ডিভিসি হোল্ডার কর্তৃক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের মাধ্যমে অডিট সম্পন্ন করা হয়, যা দাতাদের প্রতি সংস্থার জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত।
তিন দেশে একযোগে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মিত ডকুমেন্টেশন, মাঠ থেকে সরাসরি ভিডিও প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও গুণিজনদের তত্ত্বাবধান ও আহ্বানে পরিচালিত এই কার্যক্রম স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে।
সব মিলিয়ে, চলমান রমজানে গাজা, সুদান ও বাংলাদেশে মানবিক সহায়তার মাধ্যমে টিম হাফেজ্জী তাদের কার্যক্রমকে বহুমাত্রিক ও সমন্বিত রূপ দিয়েছে—যেখানে তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক উন্নয়ন উদ্যোগও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।