পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুর চামড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাচার ঠেকাতে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মোহাম্মদ লতিফুল বারী জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রতিবছরই কিছু অসাধু চক্র সীমান্ত ব্যবহার করে চামড়া পাচারের চেষ্টা করে থাকে। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে চামড়া পাচার রোধে সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম শনাক্ত করা যায়।
চামড়া পাচার রোধে শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে বিজিবি। সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মসজিদে জুমার নামাজের আগে মুসল্লিদের সীমান্ত আইন ও অবৈধ পারাপারের ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে।
এছাড়া সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে অবৈধ চামড়া পাচারের বিরুদ্ধে সচেতন করা হচ্ছে।
বিজিবি অধিনায়ক জানান, চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও পৃথকভাবে আলোচনা করা হচ্ছে। তাদের বৈধ উপায়ে চামড়া সংগ্রহ ও বিপণনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে যেন কোনোভাবেই চামড়া পাচার না হয় সে বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং অবৈধ পাচারের সুযোগ না তৈরি হয়, সে লক্ষ্যে বিজিবি সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।
বিজিবি কর্মকর্তারা সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখা গেলে দ্রুত বিজিবিকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
ঈদুল আজহার পরবর্তী সময়ে চামড়া নিয়ে একটি বড় অর্থনৈতিক বাজার তৈরি হয়, যা দেশের শিল্প ও বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই খাতে অবৈধ পাচার রোধ করা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সার্বিকভাবে হিলি সীমান্তে বিজিবির এই কঠোর নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চামড়া পাচার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক