সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টিতে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এই তালিকায় আওয়ামী লীগ ও যুবদল থেকে বহিষ্কৃত দুই নেতার নাম থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বাঙ্গালা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবু হানিফ এবং বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা সাদ্দাম হোসেন। তাদের মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবু হানিফ একসময় বাঙ্গালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
অন্যদিকে সাদ্দাম হোসেন বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে দলীয় কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে জানা গেছে।
গত ২৩ মে অনুষ্ঠিত এক সভায় জামায়াতে ইসলামী উল্লাপাড়া উপজেলা পর্যায়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে। ওই সভায় সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
সভা সূত্রে জানা যায়, মনোনয়ন ঘোষণার আগে আবু হানিফ ও সাদ্দাম হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এরপরই তাদের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাদের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি নিয়ে সমালোচনাও দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে আবু হানিফ বলেন, তিনি আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে দল তাকে বহিষ্কার করেছে। তিনি জানান, পরে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন এবং দল তাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিয়েছে।
বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন বলেন, সাদ্দাম হোসেন অতীতে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরে তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলী বলেন, যেসব প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন তারা পূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় আদর্শ গ্রহণ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তাদের যোগদানের পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দল পরিবর্তন ও নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ায় উল্লাপাড়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে উল্লাপাড়ার এই প্রার্থী তালিকা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা নির্বাচনের আগে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক